✠ নূরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশ (এন.টি.কিউ.বি) প্রধান কার্যালয় মোহাম্মদপুরে নূরানী মুআল্লিম প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি চলছে..........ক্লাস শুরু হবে আগামী ২০ই অক্টোবর-২০১৮ইং। বিস্তারিত:- ০১৭৩৩-৭১৫৬৭৮, ০১৭৬৫-৪৫৫৬৩৬

photo

দুই মাস ব্যাপী মুআল্লিম প্রশিক্ষণের নতুন ব্যাচে ভর্তি চলছে

photo

দুই মাস ব্যাপী মুআল্লিম প্রশিক্ষণের নতুন ব্যাচে ভর্তি চলছে

নূরানী পদ্ধতী .....................

‘‘নূরানী পদ্ধতী” “আমি কুরআন মাজীদ সহজ করিয়া দিয়াছি উপদেশ গ্রহনের জন্য, অতএব উপদেশ গ্রহণ কারী কেহ আছো কি ?” বিশ্ব মানবের প্রতি মহান আল্লাহর দরদমাখা এই আহ্বানে সাড়া দেয়ার এক অদম্য প্রচেষ্টার নাম হচ্ছে ‘নূরানী পদ্ধতি’। এ পদ্ধতি বাংলাদেশ সহ বিশ্ব মুসলমানের জন্য জরুরী দীনশিক্ষা ও পবিত্র কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত শেখার এক অলৌকিক দুয়ার খুলে দিয়েছে। ষাটের দশকের শুরু হতে নূরানী পদ্ধতির আবিষ্কারক “ শাইখুল কুরআন আল্লামা কারী বেলায়েত হুসাইন (রহ.)”, মহান আল্লাহর উপরোক্ত ঘোষনা কে সামনে রেখে সহজ পন্থায় পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত শেখার উপর গবেষনা শুরুকরেন তাঁর সুদীর্ঘ ৬০ বৎসরের অধীককাল অক্লান্ত পরিশ্রম কুরআনের প্রতি একনিষ্ঠতা ইখলাস ও দোয়ার বরকতে জরুরী দীন ও সহজ পন্থায় পবিত্র কুরআন শিক্ষার এক বরকতময় পদ্ধতি লাভ করেন। যা আজ নূরানী পদ্ধতি নামে পরিচিত। নূরানী পদ্ধতি কুরআন শিক্ষা পদ্ধতির পাশা পাশি বাংলা, অংক, ইংরেজী তথা জেনারেল শিক্ষার সমন্ময় সাধন করে শিশু শিক্ষায় সময়ের শ্রেষ্ঠ অবদান রেখে চলছে, এ পদ্ধতিকে আরো যুগোপযোগী করা হয়েছে। যার ফলে সর্ব সাধারনের মাঝে ব্যাপক ভাবে গ্রহণ যোগ্যতালাভ করে, বর্তমানে তিন বৎসরের সিলেবাসে নূরানী পদ্ধতিতে পড়ালেখা করে একটি শিশু মাদ্রাসা ও স্কুলের যে কোন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় ৪র্থ শ্রেণি, হিফজ বিভাগ সহ সমমানের যে কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে,  বিস্তারিত →

শায়খুল কুরআন আল্লামা ক্বারী বেলায়েত হুসাইন (রহঃ) এর পরিচিতি

                                     জন্ম              শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবক, মরোত্তর শাইখুল কুরআন উপাধীতে ভূষিত হওয়া এ মহা মনীষীর জন্ম বর্তমান চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত শাহারাস্তি উপজেলার দক্ষিণ সূচী পাড়া ইউনিয়নের (কৃষ্ণপুর) বর্তমান বেলায়েতনগরে (যা তার নামে নাম করন করে রাখা হয়) ১৯১০ ইং সনের কোন এক শুক্রবার (সম্ভব্য জন্ম তারিখ ও বার) এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম দ্বীনি পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার বাবা মুনশী আব্দুল জলীল ছিলেন অত্যন্ত খোদাভীরু, সৎ, সমাজের আস্থা ভাজন ও কুরআন প্রেমিক। মুনশী আব্দুল জলীলের পুত্র সন্তানের কাকতি মিনতি মাওলাপাক যেন ইব্রাহিম আঃ মত করে কবুল করেন, ২ কন্যা সন্তান আগমনের সু-দীর্ঘ ১৮ বছর পর বৃদ্ধ বয়সে শিশু বেলায়েতের আগমন হয়। বাবা পুত্র সন্তানের জন্য বহু পূর্বেই উপহার হিসাবে সংগ্রহ করে রেখে যান বিক্ষাত তাফসীরুল কুরআনের একটি গ্রন্থ ‘‘তাফসীরে মা’আরিফুল কুরআন” মুফতী মুহাঃ শফি (রহ.)।                                  শিক্ষা জীবন               প্রথমে আপন চাচার নিকট হাতে খড়ি নেয়ার উদ্দেশ্যে চাচার সাথেই ঢাকায় আগমন, ২বছর পর স্বীয় খালাতো বোনের বাড়ীতে যায়গীর থেকে শিক্ষা জীবন শুরুর চেষ্টা, কিন্তু আল্লাহ পাক তার খাস বান্দাকে হয়ত কারো করুনায় গড়েতুলবেন না। এজন্য কোথাও শিক্ষা জীবন শুরুর সুযোগ দেননি। বড় বোন বাবার রেখে যাওয়া সেই তাফসীর গ্রস্থ দেখিয়ে অশ্রু সজল নয়নে বলেন ছোট ভাই বেলায়েত কে বাবার ইচ্ছার কথা। তিনি তোমার জন্য এই তাফসীর গ্রন্থ সংগ্রহ করে রেখেছেন। তোমাকে সে শিক্ষা নিতেই হবে। এখানে সেখানে কারো করুনার চিন্তা না করে সোজা ফরিদ গঞ্জের বার পাইকা মাদরাসায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানেই আলিফ বা থেকে প্রাইমারী স্তর সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তি ইসলামিয়া মাদরাসায় মাধ্যমিক স্তর সমাপ্ত করে। সর্বশেষ ঢাকার বড় কাটারা আশ্রাফুল উলুম হুসাইনিয়া মাদরাসায় শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটে। উচ্চ আখলাক ও নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী হওয়াতে ছাত্র জীবনেই শিক্ষকদের নজর কাড়েন। বড় কাটারায় মুজাহিদে আযম আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী, আমীরে শরীয়ত মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী, পীরজী হুজুর ও মুহাদ্দিস সালাউদ্দিন সাহেবদের মত জগত বিখ্যাত আসাতেজা গনের সান্নিধ্য লাভ করে ধন্য হন।                                  কর্ম জীবন             আল্লামা শামসুল হক ফরীদপুরী(রহঃ) তরুন আলেমে দ্বীন মাও: বেলায়েত হুসাইন এর সুপ্ত প্রতিভা, তীক্ষ মেধা, সু-উচ্চ আখলাক, গম্ভীর ভাবাবেগ ও দীপ্তময় চেহারা দেখে স্বীয় মাদরাসা গওহর ডাঙ্গায় শিক্ষক হিসাবে নিয়োজিত করেন। এবং নিজ  তত্বাবধানে রেখে বাস্তব আমলি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পূর্ণ যোগ্যতা অনুধাবন করে পাঠিয়ে দেন চাঁদপুর জাফরাবাদ হাফেজিয়া মাদরাসার মোহতামিম এর দায়িত্বে মুজাহিদে আজমের আদেশে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই মাদরাসাকে দাওরায়ে হাদীসে উন্নীত করে সফলতার সূ-খ্যাতী অর্জন করেন। এছাড়াও ঢাকার জামেয়া নূরিয়া কামরাঙ্গীচর মাদরাসায় ভিত্তিত্তোর প্রতিষ্ঠা সহ বহু প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে উন্নত শিক্ষা উপহার দিয়ে ব্যপক প্রশংসিত হয়েছেন।                      ইলমি খেদমতে প্রশিদ্ধ কয়েকজন শিষ্য            ১। মুহাদ্দিস মাওঃ হেলাল উদ্দিন (মুহাদ্দিস, গওহর ডাঙ্গা মাদ্রাসা গোপালগঞ্জ) ২। শাইখুল হাদীস মাওঃ মুফতি জাফর সাহেব (শাইখুল হাদীস, জামেয়া ইসলামিয়া মহামায়া মাদ্রাসা চাঁদপুর) ৩। শাইখুল হাদীস মাওঃ রহমতুল্লাহ (রহ.) (শাইখুল হাদীস, জামেয়া নূরানিয়া তারাপাশা কিশোরগঞ্জ) এছাড়াও আরো অনেক মুফতি মুহাদ্দেস তার হাতে গড়ে গেছেন                          নূরানী পদ্ধতীর গবেষণা             শাইখুল কুরআন ছাত্র জীবনেই ছিলেন তাহাজ্জুদের পাবন্দ, তাঁর নামাজ ছিল খুশুখুজু ও একাগ্রতায় ভরপুর জীবন্ত নামায, যেন সাহাবায়েকেরামের নামাযের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। প্রিয় নবীজির ইলমে নববীর সত্যিকারের ওয়ারিছ। নবীজির একটি হাদীস তাকে ব্যাথিত করে তুলেছিল, طلب العلم فريضة علي كل مسلم “ইলমেদ্বীন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয”। তিনি ভাবতেন মাদরাসায় যারা দ্বীন শিখতে আসে তাদের সংখ্যা নগন্য, আর যারা মাদরাসায় আসেনা তাদের সংখ্যা অসংখ্য অগনিত। সমাজের এ বিশাল জন গোষ্ঠির কথা চিন্তা করে ব্যাথিত ও মর্মাহত হতেন। পবিত্র কুরআন মাজীদ ও জরুরী দ্বীন শিক্ষা করা ছাড়া পরকালে মুক্তির কোন পথ নেই। ষোল আনা মুসলমান কে জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা করতে দ্বীন শিক্ষার বিকল্প নেই। শত ভাগ মুসলমানের সন্তানদের কে নাজাতের ফিকির নিয়ে কওমী মাদরাসার ১৩ বছরের খ্যাতিমান সফল শিক্ষকতার জীবনকে ছেড়ে পবিত্র কুরআনের তরে নিজকে উৎসর্গ করে উম্মতের দরদে দরদী হয়ে মুক্তির পথের সন্ধানে আগে বাড়তে থাকেন । এবার তিনি পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে আশার আলো খুজে পেলেন। ولقد يسرناالقران لذكرفهل من مدكر (সুরা কামার, আয়াত ১৭) “অবশ্যই আমি কুরআনকে অতি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহনের জন্য, অতএব উপদেশ গ্রহন কারী কেহ আছে কি?”এ আয়াত কে সামনে রেখে তিনি মহান রবেব দরবারে আকুতি পেশ করতে থাকেন। হে আল্লাহ! আপনি দয়ার সাগর করুনার আধার আপনার কথা চির সত্য, কুরআন অতি সহজ কিন্তু আমরা যে সে সহজ পথ হারিয়ে ফেলেছি। আপনি দয়া করে আমাদিগকে আপনার বর্নিত সহজ পথ দেখিয়ে দিন। মর্মস্পর্শী ব্যাথিত হৃদয়ে মহান প্রভূর সমীপে অশ্রু বিসর্জনের মাধ্যমে নিবেদন পেশ করতে থাকেন এবং চেষ্টা ও ফিকিরের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন মুসলমানদের সন্তানদের দরদে। কাজের ফাকে ফাকে ছোট শিশুর ন্যায় কাঁদতে থাকতেন। চলার পথে চিন্তার গভীরতায় গন্তব্য হারিয়ে ফেলতেন। রাতের প্রহর গভীর হলেই মহান রবেব সমীপে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে অশ্রু ঝরিয়ে শশ্রু ভিজিয়ে আপন সৃষ্টি কর্তার সান্নিধ্যে বিভোর হয়ে যেতন। দীর্ঘ দিনের কাকুতি মিনতি অশ্রু বিসর্জনের ফলে তিনি দয়াময় প্রভূর রহমতের ইশারায় পবিত্র কুরআন শিক্ষার সহজ পদ্ধতি লাভ করেন যা পরবর্তীতে নূরানী কুরআন শিক্ষা পদ্ধতি নামে সুখ্যাতি লাভ করে। এ পদ্ধতি বর্তমানে বাংলাদেশ সহ বিশ্ব মুসলমানদের জন্য জরুরী দ্বীন শিক্ষার ও পবিত্র কুরআন মাজীদের তেলাওয়াত শেখার এক অলৌকিক দুয়ার খুলে দিয়েছে। আল হামদুলিল্লাহ , আজ বাংলাদেশের মুসলমানদের নিকট পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত সহজ ও সমাদৃত, নূরানী পদ্ধতি গ্রহনীয় ও নন্দিত। যুগের চাহিদাকে সামনে রেখে জাগতিক শিক্ষার সমন্নয় সাধন করে নূরানী শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো প্রানবন্ত করেছেন। নূরানী মাদরাসার বরকতে হাজারো বেকার যুবকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে, নিরক্ষরতার অভিসাপ হতে জাতির মুক্তির পথ সূগম হয়েছে।                নূরানী প্রশিক্ষনের প্রসিদ্ধ কয়েকজন শিষ্য        ১। ক্বারী মোহাম্মদ উল্লাহ (রহ.) নোয়াখালী। ২। মাওঃ আলি আফজাল সাহেব (রহ.) নোয়াখালী। ৩। মাওঃ রহমত উল্লাহ সাহেব (রহ.)চাঁদপুর। ৪। ক্বারী আঃ ছোবহান সাহেব (রহ.) পটুয়াখালী। ৫। মাওঃ হুসাইন আহমদ সাহেব (কুমিল্লা)। ৬। মাওঃ আবু বকর সিদ্দিক সাহেব (চাঁদপুর) ৭। মাওঃ ইসমাইল বেলায়েত হুসাইন সাহেব (চাঁদপুর) ৮। মাওঃ ওসমান গনি সাহেব (চট্টগ্রাম) ৯। হাঃ আমিনুল হক সাহেব  (নোয়াখালী) ১০। মাওঃ শফিকুল্লাহ সাহেব সহ আরো অসংখ্য শিষ্য শিক্ষক ও প্রশিক্ষক তৈরি করে গেছেন                             পারিবারিক জীবন            পারিবারিক জীবনে তিনি ১ স্ত্রী ৩ মেয়ে ও ছয় পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন, ছেলেরা সকলেই হাফেজ আলেম ও স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে সবাই নূরানী পদ্ধতিতে শিক্ষার প্রচার প্রসারে নিয়োজিত রয়েছেন।                        রব্বে কারীমের সান্নিধ্যে গমন            মহাকালজয়ী এ কিংবদন্তি ২৮ রমযানুল মুবারক ১৪৩৮ হি:, ১০ আষার ১৪২৪ বাংলা, ২৪ জুন ২০১৭ ইংরেজী, রোজ শনিবার দুপুর ১২.২৫ মিনিটে ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ ২৮ নং প্রবাল হাউজিং এর তৃতীয় তলায় মাহবুবে হাকীকির আহবানে সাড়া দিয়ে তার সান্নিধ্যে চলে যান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস শাইখুল কুরআনের রেখে যাওয়া নূরানী সিলেবাসকে প্রাথমিক পর্যায়ে সিলেবাস হিসাবে অনুসরন করলে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পাবে আলোকিত জাতি হিসাবে মুক্তি পাবে নিরক্ষরতার অভিষাপ থেকে। পবিত্র কুরআনের আলোতে দূর হবে অমানিশা, উম্মত পাবে সঠিক পথের দিশা। বন্ধ হবে হিংসা বিদ্বেষ হানা-হানি। গড়ে উঠবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। বয়ে আনবে ইহকাল ও পরকালের মুক্তি। বিস্তারিত →